বাংলাদেশের সিনেমার যুবরাজ মান্নার জন্মদিন আজ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ণ, ০৬/১২/২০১৯

নতুন মুখের সন্ধানে একজন চিত্রনায়ক দরকার ছিল। আর সেই সিনেমা থেকেই নতুন করে ঢাকাই সিনেমায় চলে আসেন প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্না।

ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রধান নায়ক হওয়ার সৌভাগ্য তার হয়নি। এজন্য বড়ই কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিলো। কাশেম মালার প্রেম সিনেমাটি হিট হওয়ার পর মান্নার জীবন গল্প বদলে যায়। তারপর মান্না হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই সিনেমার যুবরাজ। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সেই চিত্র নায়ক মান্নার জন্মদিন।

টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলাতে জন্ম মান্নার। টাঙ্গাইলে তাকে চিনতেন এসএম আসলাম তালুকদার নামে। সিনেমায় এসে হয়ে যান মান্না। দৈহিকভাবে না থেকেও আজও মান্না সবার হৃদয়ে বেঁচে আছেন। শুধু টাঙ্গাইলই নয়, বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমী মানুষেরা এক নামে চিনেন তাকে।

মান্না অভিনীত প্রথম সিনেমার নাম তওবা। পরিচালক ছিলেন আজহারুল ইসলাম। তার নায়িকা ছিলেন শেলী। যার সঙ্গে পরে তিনি ঘর বেঁধেছিলেন।

কষ্ট-সংগ্রাম-পরিশ্রমের ফলে একসময় মান্না হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই সিনেমার এক নম্বর নায়ক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন। নায়ক থেকে প্রযোজক হয়েছিলেন। কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্র নামে তার ছিলো চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

কৃতাঞ্জলি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে মান্নার জীবদ্দশায় অনেক সিনেমা নির্মাণ হয়েছিলো, যার বেশিরভাগই ব্যবসায়িক সফলতার মুখ দেখেছিলো। নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম প্রযোজিত সিনেমার নাম লুটতরাজ।

মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মিত আম্মাজান সিনেমাটি ছিলো সেই সময়ের আলোচিত ও ব্যবসাসফল একটি সিনেমা। আজও আম্মাজান সিনেমার গান মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

আশির দশকে সিনেমায় আসার পর অনেক নায়িকার বিপরীতে সিনেমা করেন মান্না। চম্পার সঙ্গে বেশ কয়েকটি সিনেমা করেন। মান্না ও চম্পা জুটি হয়ে অভিনয় করা কাশেম মালার প্রেম ছিলো মান্নার অভিনয় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। বেদের মেয়ে জোসনার পর কাশেম মালার প্রেম ছিলো ফোক সিনেমার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত।

কাজী হায়াত পরিচালিত বেশ কয়েকটি সিনেমার নায়ক ছিলেন মান্না। তার মধ্যে দাঙ্গা, ত্রাস, দেশ প্রেমিক, সিপাহী ছিলো মান্নার ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল কয়েকটি সিনেমার মধ্যে অন্যতম। একজন নায়ক হিসেবে তিনি সর্বমহলে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন এই সিনেমাগুলি দিয়ে।

ঢাকাই সিনেমার সব শীর্ষ নায়িকাকে মান্না যেমন পেয়েছিলেন অভিনয় জীবনে, একইভাবে শীর্ষ সব পরিচালকদের পরিচালনায়ও মান্না অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন। দর্শকদের হলমুখী করতে মান্নার ছিলো অনেক অবদান।

প্রিয়দর্শিনী নায়িকা হিসেবে খ্যাত মৌসুমীর বিপরীতে মান্না সবচেয়ে বেশি সিনেমা করেছিলেন। মান্না ও মৌসুমী ৪৫টি সিনেমা করেছিলেন, যা ওই সময়ের একটি রেকর্ড।

মান্না ও মৌসুমীর কয়েকটি সিনেমার মধ্যে রয়েছে- লুটতরাজ, রাজু মাস্তান, স্বামী ছিনতাই, সন্ত্রাসী মুন্না, জীবনের গল্প, বীর সৈনিক, সত্যের বিজয়, কষ্ট, আমি জেল থেকে বলছি ইত্যাদি।

মৌসুমী ও শাবনূরের পর মান্না আরেক জনপ্রিয় নায়িকার বিপরীতে অনেক সিনেমা করেছিলেন। তিনি হলেন পূর্ণিমা। মান্না ও পূর্ণিমার জুটি হয়ে করা সিনেমার সংখ্যা ২৫টি। কয়েকটি সিনেমার মধ্যে রয়েছে- মনের সাথে যুদ্ধ, স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ, সুলতান ইত্যাদি।

মান্না তার অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বেশ কয়েকবার পেয়েছিলেন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এবং বাচসাস পুরস্কার।

সংগঠক হিসেবে ছিলেন জনপ্রিয়। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি (মৃত্যুর সময় এই পদে ছিলেন)। বিশেষ দিনে আজও ভক্তরা তাকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন।

সারাদিন/৬ডিসেম্বর/টিআর