প্রকৌশলীদের চিন্তা-চেতনায় থাকতে হবে দূরদর্শিতার প্রতিফলন: রাষ্ট্রপতি

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতাবিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, ০৬/১২/২০১৯

রাষ্ট্রপতি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘প্রকৌশলীগণ উন্নয়নের কারিগর। তাদের মেধা, মনন ও সৃজনশীল চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসে টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা। তাদের চিন্তা-চেতনায় থাকতে হবে দূরদর্শিতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগামী ২০৫০ সাল বা ২১০০ সালে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেমন হওয়া উচিত বা বাংলাদেশের অবস্থান কোন স্তরে পৌঁছাবে তা বিবেচনায় রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকেও যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আমাদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মনে রাখতে হবে, আমরা আজ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক। আমাদের আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। আমি আশা করি, আজকের নবীন প্রকৌশলীরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করবে এবং তাদের সৃজনশীল চিন্তা ও লব্ধ জ্ঞানকে এ লক্ষ্যে কাজে লাগাবে।

বাংলাদেশকে একটি অপার সম্ভাবনাময় দেশ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের এ দেশে রয়েছে বিপুল মানবসম্পদ, উর্বর কৃষি জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ। বর্ধিত জনসংখ্যার এ দেশকে আরো সমৃদ্ধশালী করতে হলে দরকার পরিকল্পিত উপায়ে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করা। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকায় এগিয়ে আসতে হবে প্রকৌশলীদের।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম ও এম মাসুদা রশিদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

নবীন গ্রাজুয়েটবৃন্দের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি মাইলফলক, একইসাথে তা স্নাতকদের জন্যও একটি স্মরণীয় দিন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের দীর্ঘ শ্রম ও সাধনার ফলে অর্জিত ডিগ্রির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ও তার আপন কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করতে পারে।’

অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ সিজিপিএধারী ৪ জনকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক’ প্রদান করা হয়। এছাড়া সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দুই হাজার ১৪৮ জন গ্র্যাজুয়েট এবং ৮৩ জন পোস্ট-গ্র্যাজুয়েটসহ মোট প্রায় দুই হাজার ২৩১ জন ছাত্র-ছাত্রীকে সমাবর্তন ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

সারাদিন/৬ডিসেম্বর/টিআর