রোহিঙ্গাদের কারণে বিভিন্ন ঝুঁকিতে স্থানীয়রা

নিজস্ব প্রতিনিধিনিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, ০৫/১২/২০১৯

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয় জনগণ বিভিন্ন ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) “বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের (রোহিঙ্গা) নাগরিকদের বাংলাদেশে অবস্থান: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়” শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে টিআইবি’র ধানমন্ডিস্থ মাইডাস সেন্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এসময় রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তের দফা সুপারিশ প্রদান করে সংস্থাটি।

আর এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম. আকরাম এবং আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম।

গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহনুর রহমান এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা।

গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৭ সালে পরিচালিত গবেষণায় টিআইবি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি নিরূপণ করে। এ থেকে উত্তরণে যেসব সুপারিশ করেছিল তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেশ কয়েকটি ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের ঘাটতিসহ নানাবিধ চ্যালেঞ্জ, ঘাটতি ও ঝুঁকি বিদ্যমান।

গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। সরকারি অংশীজনের মধ্যে এনজিও কার্যক্রমের তদারকিতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আরআরআরসি কার্যালয় একই ভূমিকা পালন করে। এর ফলে এনজিওগুলোর প্রকল্প কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন ও ছাড়পত্র পেতে এবং ত্রাণের মান ও পরিমাণ যাচাইয়ে দীর্ঘসূত্রতা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গবেষণার তথ্যমতে, ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় জনবলের ঘাটতি রয়েছে। মাত্র ১২ জন সিআইসি ও ২২ জন অ্যাসিস্টেন্ট সিআইসিসহ মোট ৩৪ জন কর্মকর্তা দিয়ে প্রায় দশ লক্ষ জনগোষ্ঠীর বসবাসরত ৩৪টি ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। জনবল ঘাটতির কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন সিআইসিকে ৩-৫টি ক্যাম্পের দায়িত্ব পালন করতে হয়।

এর ফলে ক্যাম্পের তদারকি ব্যাহত হয় এবং ক্যাম্প পরিচালনা ও ত্রাণ বণ্টনে ‘মাঝি’দের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির ফলে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় ২০১৭ সাল হতে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত একবারও প্রয়োজনের বিপরীতে সম্পূর্ণ অর্থ পাওয়া যায়নি। ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রয়োজনের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থ যথাক্রমে ৭৩, ৬৯ ও ৫৫ শতাংশ। ফলে খাতভিত্তিক মৌলিক চাহিদা পূরণে (বিশেষত খাদ্য ও পুষ্টি, স্বাস্থ্য, আশ্রয়, পানি ও স্যানিটেশন, আশ্রয় ও সাইট ব্যবস্থাপনা) সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিও’র একাংশের পরিচালন ব্যয় তাদের কর্মসূচির ব্যয়ের তুলনায় বেশি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের সাতটি সংস্থার প্রদত্ত তথ্য (২০১৭-১৯) অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পরিচালন ব্যয় ইউএন ওম্যান (৩২.৬%) ও সর্বনি¤œ জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (৩.০%।

এখানে উল্লেখযোগ্য, জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থাগুলোর প্রদত্ত কর্মসূচী ব্যয়ের মধ্যে তাদের অনুদানে পরিচালিত এনজিওসমূহের পরিচালন ব্যয়ও অন্তর্ভক্ত। তাই প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় জাতিসংঘের অনুদানে পরিচালিত কর্মসূচীর পরিচালন ব্যয়ের হারের সঠিক হিসাব শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সংস্থা কর্তৃক করা সম্ভব।

গবেষণায় দেখা যায়, রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিদ্যমান। ৩৪টি ক্যাম্পের মধ্যে দুইটি নিবন্ধিত ক্যাম্প ব্যতীত বাকিগুলোতে সিআইসি’র অধীনে নিরাপত্তা কর্মী নেই।
সারাদিন/৫ডিসেম্বর/টিআর