খালেদার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতের নিরাপত্তা জোরদার

নিজস্ব প্রতিনিধিনিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:১১ পূর্বাহ্ণ, ০৫/১২/২০১৯

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় করা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনের ওপর আপিল বিভাগে শুনানি হবে। এজন্য সুপ্রিম কোর্ট এলাকা সহ রাজধানীর প্রত্যেক মোরে মোরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৬ বিচারপতির বেঞ্চে এ শুনানি হবে।

শুনানি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রবেশ পথগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস‌্য মোতায়েন করা হয়েছে। বসানো হয়েছে মেটাল ডিটেক্টর। পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কাউকে সুপ্রিম কোর্টে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আইডি কার্ড দেখে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালত প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার তিন স্তরের নিরাপত্তা ব‌্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর রাজধানী জুরে মোরে মোরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর এলাকায় বেশ কিছু ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা গেছে।

আদালত কি ধরনের আদেশ দেন তা জানতে বিএনপির নজর থাকবে। শুধু বিএনপি নয়, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে রয়েছে কৌতূহল।

তবে বিএনপির নীতিনির্ধারকসহ আইনজীবী নেতাদের আশা, শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পাবেন খালেদা জিয়া।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র থেকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ না দিলেও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা আদালতের বাইরে অবস্থান নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

কোর্টের আশপাশে শোডাউনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরপাকড় করতে পারে এমন শঙ্কাও আছে তাদের। তাই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবেলার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। জামিন না দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে নেতাকর্মীদের।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মোট ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি মামলায় জামিন হয়েছে। আজ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি। এ মামলায় জামিন হলে একই বিবেচনায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন পাবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এরপর নতুন করে মামলা না হলে তার মুক্তিতে কোনো বাধা থাকবে না।

এই প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চেয়ারপারসনের মামলার জামিনের শুনানি আজ। আশা করি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ তার স্বাস্থ্যের সঠিক রিপোর্ট আদালতে জমা দেবেন। সরকার কোনো হস্তক্ষেপ না করলে চেয়ারপারসন আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন।

প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বছর ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে সাত বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে জামিনের আবেদন করা হয়। হাইকোর্ট গত ৩১ জুলাই জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। এই খারিজের রায়ের বিরুদ্ধে গত ১৪ নভেম্বর আপিল করেন খালেদা জিয়া। এই আবেদনের ওপর গত ২৮ নভেম্বর আপিল বিভাগে শুনানি হয়।

সারাদিন/৪ডিসেম্বর/টিআর