‘নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর প্রতিহতের ঘোষণায় সরকার বিব্রত নয়’

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৩৯ অপরাহ্ণ, ০২/০৩/২০২০

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর একটি অংশের প্রতিহত করার ঘোষণায় সরকার মোটেও বিব্রত নয়। যারা মোদির বিরোধিতা করছে, তা কিন্তু উচিত হচ্ছে না। তাদের স্বাগত জানানো উচিত। মোদির সফরে নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশের জনগণ অতিথির সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের মতবিনিময় শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।

মোদির সফর যারা প্রতিহত করার ঘোষণা দিচ্ছে, তাদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে কাদের বলেন, তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার সংঘাত সংকুলের কারণ হয়নি। তাদের রিঅ্যাকশন প্রকাশ করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মতের লোকজন। এখানে ধর্মীয় ভাবে বিষয়টি অনেকে দেখছে। কাজেই এটা সব সময় ছিল আজও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। কাজেই সম্পর্কের মধ্যেই এগিয়ে যাবে।

নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে ভারতের কোনো পরামর্শ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নিয়ে তারা কিছু বলেনি। তারা মনে করেন এ সফর ভালো হবে। বাংলাদেশের জনগণ ৭১ এর বন্ধনকে স্মরণ করে ভালোভাবে নেবে।

এনআরসি সমস্যা সমাধানের কোনো আশ্বাস পাওয়া গেলো কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, আসার আগেই সমাধানের আশ্বাস- এটাতো ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ইতিমধ্যেই নতুন কিছু বলেছেন। তিনি তো কিছু বাদ রাখেননি, সব কথাই বলেছেন। তিনি আসছেন মুজিববর্ষ উপলক্ষে। অতিথি হিসেবে আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান মিত্র ভারতে প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনে যোগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে ১৮ তারিখ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আছে। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী সাথে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পররাষ্ট্র সচিব তো অনেক দিন আমাদের এখানে হাইকমিশনার ছিলেন। তখন আমাদের রোডস অ্যান্ড ব্রিজেসের বিভিন্ন প্রকল্প আছে ভারতের সঙ্গে। সেগুলো নিয়ে প্রায়ই আমাদের দেখা-সাক্ষাৎ হতো। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে আমার একটা ভালো সম্পর্ক রয়েছে। যে কারনে তিনি এই সংক্ষিপ্ত সফরেও আমার সঙ্গে তার সাক্ষাতের একটি কর্মসূচি রয়েছেন।

তিনি বলেন, সমস্যা নিয়ে তো উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হবেই দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে। কাজেই আলোচনাটা কী হবে আমি এ মুহূর্তে বলতে পারবো না। তবে আমাদের যে সম্পর্ক এই সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে। আমাদের অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হয়েছে। আরো কিছু ইস্যু আছে যেগুলো সমাধানের জন্য দিন গুনছে এবং আলোচনায়ও অগ্রগতি আছে। ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনায় আরো অগ্রগতি হবে। কাজেই সম্পর্ক যখন আছে এই সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে শক্তিশালী হবে। এটিই আমরা আশা করি।

ভারতে যে রাজনৈতিক সহিংসতা চলছে এটা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান কী এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আমি ইতিমধ্যেই বলেছি, আমাদের প্রতিবেশীর ঘরে আগুন লাগলে পাশের ঘরে তার আঁচ অবশ্যই যায়। একথা তো আমি আরো আগেই বলেছি। আমাদের এখানে উদ্বেগ ছিল এবং এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার নিয়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, মিডিয়ার সমালোচনা মিডিয়া করবেই। ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণায় তো মাঝে মধ্যে এমন ইস্যু আসে যা প্রচার না ঠিক অপপ্রচার। ফেসবুকে ভালো প্রচারও আছে খারাপ প্রচারও আছে। আমারতো মনে হয় ভালো প্রচারই বেশি।

সারাদিন/২মার্চ/টিআর