অমর একুশে গ্রন্থমেলার পর্দা নামলো

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকজ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ, ০১/০৩/২০২০

এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলার পর্দা নামলো। শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) শেষ দিনের মেলায় মিলেছিলেন পাঠক-প্রকাশক। গ্রন্থমেলার শেষ দিন সন্ধ্যা হতেই নতুন বইয়ের গন্ধে মেতে থাকা অগণিত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ।

শেষ দিন মেলায় বিদায়ের সুর, তবুও তালিকা ধরে কেনাকাটা, হাসিঠাট্টা, দল বেঁধে কোনো স্টলে গিয়ে বইয়ের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়া সবই আছে মেলা চত্বরে। যারাই এসেছেন, বাড়ি ফিরেছেন ব্যাগ ভর্তি বই নিয়ে।

মেলায় আগত পাঠক হাসনাত নাঈম বলেন, লেখক-পাঠকদের যে মিলনমেলা, তা আজ ভাঙবে। সারাবছরতো আর এভাবে প্রিয় লেখকদের সান্নিধ্য পাওয়া যায় না, তাই শেষ সময়ে আবারো এলাম। শেষ সময়ে কিছু বই কিনেই ফেরার ইচ্ছে আছে। শেষ সময়ে মেলার বিক্রিও ছিল অনেক ভালো।

এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, মেলায় শেষ সন্ধ্যায় পাঠকের সংখ্যা অনেক বেশি। বই বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে। যারা আসছেন, প্রায় সবাই ফিরছেন অনেক অনেক বই কিনে। এদিকে বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রের হিসাবে এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে ৪ হাজার ৯১৯টি। যা গতবারের তুলনায় ২৩৪টি বেশি।

শনিবার গ্রন্থমেলার সমাপনী দিনে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এ বছর সর্বোচ্চ বই প্রকাশিত হয়েছে কবিতার। যা সংখ্যা ১ হাজার ৫৮৫টি। এ ছাড়া গল্প ৬৪৪টি, উপন্যাস ৭৩১টি, প্রবন্ধ ২৭১টি, গবেষণা ১১২টি, ছড়া ১১১টি, শিশুতোষ ২০৩টি, জীবনী ১৪৯টি, রচনাবলি ৮টি, মুক্তিযুদ্ধ ১৫২টি, নাটক ৩৪টি, বিজ্ঞান ৮৩টি, ভ্রমণ ৮২টি, ইতিহাস ৯৬টি, রাজনীতি ১৩টি, স্বাস্থ্য ৩৬টি, রম্য ৪০টি, ধর্মীয় ২০টি, অনুবাদ ৫৭টি, অভিধান ১৪টি, বৈজ্ঞনিক কল্পকাহিনী ৬৭টি, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক ১৪৪টি এবং বিবিধ বিষয়ে বই এসেছে ২৬৮টি। এ হিসাবের বাইরেও মেলায় সহস্রাধিক নতুন বই এসেছে বলে ধারণা করছে বাংলা একাডেমি।

এদিকে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা সময়কাল ও দর্শক বিবেচনায় পৃথিবীর বৃহত্তম বইমেলা। মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বইমেলায় প্রায় কোটি দর্শকের আগমন ঘটে। তবে এ দর্শক সংখ্যার আনুষ্ঠানিক কোনো হিসাব নেয়া হয় না। ’

শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাংলা একাডেমি আয়োজিত মাসব্যাপী ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আগামী অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২১ হতে সঠিক দর্শক সংখ্যা গণনাপূর্বক পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রন্থমেলা হিসেবে এটিকে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

প্রধান অতিথি বলেন, ‘গ্রন্থমেলার চেয়ে বইমেলা শব্দটি বেশি হৃদয়গ্রাহী, চিত্তাকর্ষক, আপন ও সার্বজনীন মনে হয়। তাছাড়া দীর্ঘকাল থেকে বইমেলা শব্দটি প্রচলিত এবং প্রধানমন্ত্রীও অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধনের সময় এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সেজন্য আগামী বছর থেকে ‘অমর একুশে বইমেলা’ নামে এ মেলার নামকরণ করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই শুধু ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করেই নয়, বছরব্যাপী লেখালেখির চর্চা হোক এবং মানসম্মত বই প্রকাশিত হোক।’

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নান ইলিয়াস। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ এর প্রতিবেদন পাঠ করেন মেলা আয়োজন কমিটির সদস্য-সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ।

সারাদিন/১মার্চ/টিআর