চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গলের

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাচনের আর মাত্র দুইদিন বাকি। আর এতেই নির্বাচনের উত্তাপও বাড়ছে। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করায় এই উত্তাপে ছড়িয়েছে ব্যাপক মাত্রায়। বাড়ী, দোকান ও মাঠে সর্বত্র এখন আলোচনার বিষয় কে হবে সিটির মেয়র।

২৯ মার্চে কে পাবেন নগর পিতার মর্যাদা? আলোচনায় এগিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন। অতীতের মতো এবারও দুই প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চসিকের গত নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়াই মখোমুখি হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এবারই প্রথম সরাসরি নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই হতে যাচ্ছে। তাই দুই দলের জন্যই এই নির্বাচন সম্মান ইস্যু। রেজাউল করিমকে জেতাতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

চলছে একের পর এক ঘরোয়া বৈঠক। এসব বৈঠকে রেজাউলের জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। কিছুটা দেরিতে প্রার্থী ঘোষণা করায় বিএনপির মাঠের তৎপরতা এখনও সেভাবে চোখে পড়ছে না। তবে দু-একদিনের মধ্যেই দলটি গুছিয়ে মাঠে নামবে। এরই অংশ হিসেবে প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে (বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন চত্বরে দলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

এতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিএনপির নেতারা বলছেন, জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি। তার দাবি, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনিই জিতবেন। তার মতে, চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থান রয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।

এ প্রসঙ্গে সোলায়মান শেঠ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতিতে দাগ আছে। জাতীয় পার্টির কোনো দাগ নেই। তাই এখন মানুষ তাকিয়ে আছে জাতীয় পার্টির দিকে। জাতীয় পার্টি সন্ত্রাসমুক্ত রাজনৈতিক দল।’

নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে ১৫ ফেব্রুয়ারি মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর প্রায় ১০ দিন পর সোমবার বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন নগর সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তার হাতেই তুলে দেয়া হয় ধানের শীষ।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ডা. শাহাদাত হোসেনকে মনোনয়ন দিয়ে স্থায়ী কমিটি সঠিক কাজই করেছে। আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা আছে। জেলও খেটেছেন। অনেক রাজনৈতিক মামলা দেয়ার পরও তিনি মাঠ ছেড়ে যাননি। চিকিৎসক হিসেবে তার একটা সামাজিক মর্যাদাও রয়েছে। চট্টগ্রামের সবাই তাকে চেনে। সভাপতি হিসেবে নগর বিএনপিকে আগলে রেখেছেন। সব বিবেচনায় তিনি যোগ্য প্রার্থী।

এদিকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। উজ্জ্বল ভাবমূর্তি, দলের জন্য দীর্ঘদিনের ত্যাগ এবং দলীয় অন্তর্কোন্দল থেকে দূরে থেকে পরিচ্ছন্ন ইমেজ তৈরির করতে পারায় পুরস্কার হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। প্রতিদিন তার বাসায় শত শত নেতাকর্মী ভিড় করছেন।

চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের প্রায় সবাই পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি মেয়র পদে মনোনয়নবঞ্চিত বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনও তার পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান সমন্বয়কারী প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের আহ্বানে রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে মতবিনিময় সভা হয়। যেখানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ওই সভায় রেজাউল করিমকে জিতিয়ে আনতে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শক্তি নিয়োজিত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার রাতে জরুরি বর্ধিত সভা করে নগর আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আমাদের আদর্শিক নেত্রী যাদের মনোনয়ন দিয়েছেন, তাদের বিজয়ী করার জন্য আমাদের সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা অবস্থান নেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, রেজাউল করিম চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সমবেত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

সারাদিন/২৬ফেব্রুয়ারি/টিআর