আমানতকারীদের মাঝে আতংক ছড়ানোর চেষ্টা: নওফেল

ব্যাংকে আমানতকারীরা বাংলাদেশে কবে সব সঞ্চয় খুইয়েছে তা আমার জানা নেই। এক শ্রেণীর টাউট প্রতারক একটি সংবাদ ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে, ব্যাংক অবসায়িত হলে সরকার মাত্র এক লক্ষ টাকা দিবে। এটি ছড়িয়ে এক ধরনের আতংক ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো ব্যাংক অবসায়ন হয়েছে সবগুলোতেই আমানতকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পেয়েছে। দেরী হয়েছে, এই শুধু। একটি ব্যাংক অবসায়ন হলে তার দেয়া সকল ঋণ অর্থাৎ আদায়যোগ্য সকল ঋণ কিন্তু কুঋণ (বেড ডেট) হয়ে যায় না, এবং মাফ করে দেয়া হয় না। ঋণ গ্রহিতাদের কাছ থেকে ঋণ আদায় কাজ, অবসায়ক বা প্রশাসক দ্বারা চলমান থাকে।

এই প্রক্রিয়াতে অতীতেও কিছু ব্যাংকের অবসায়নের পরে আমানতকারীরাও তাদের জমা কৃত অর্থ ধীরে ধীরে ফেরত পেয়েছে। এখন যেই আইনটির বরাতে বলা হচ্ছে সরকারী ক্ষতিপূরণ এক লাখ মাত্র, এটি এমন সময় প্রয়োগ হবে যখন সব সম্পদ লিকুইডেট করার পরও যদি সরকার টাকা দিতে হয়, এক লক্ষ টাকার মত দিবে। এই আইন করে রাখা হয়েছে কারণ এই ভাবে সরকারের অর্থ দিতে গেলে আইন লাগে, আর সরকারের দায় নির্দিষ্ট করতে হয় আইন করে।

অতীতে কখনো সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয় নাই, এবং বিদ্যমান ব্যবস্থায় ভবিষ্যতেও দিতে হবে বলে মনে হয় না। তবুও আইনের একটি সুরক্ষার প্রয়োজন থাকে, তাই করা হয়। এই বেশ সময় আগে পাশকৃত আইনের কথা ভাইরাল করে ব্যাংকের উপর মানুষের আস্থা কমানোর জন্য এই অপপ্রচারকারীরা ভাইরাল করছে নানান মন্তব্য সহকারে। এক্ষেত্রে আমরা যুক্তরাজ্যের উদাহরণ দেখতে পারি।

পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি যুক্তরাজ্য এটি মোটামুটি ব্যাংকিংয়ের অর্থনীতি। ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের চাইতে বেশি তাদের আমানত, আরব অনেক রাষ্ট্রীয় অর্থও এখানে বিপুল পরিমাণে রাখা। যখন আমি সেখানে ছিলাম তখন আইন ছিলো, ব্যক্তি বিশেষে সরকার মাত্র বিশ লক্ষ বাংলাদেশি টাকা পর্যন্ত ক্ষতি পূরণ দিবে, বা এর কম বেশি। কিন্তু এই ক্ষতিপূরণের প্রয়োজন দরকার আদৌ হয় না, আইনের বাধ্যবাধকতার জন্য এবং সরকার তার নিজের আইনি সুরক্ষার জন্য এই আইন করে নির্দিষ্ট করে তার দায় সীমা।

সেখানে ‘১ বিলিয়ন ডলার হারালেও পাবেন বিশ লাখ বাংলা টাকা’ এই উদ্ভট প্রচারণা কখনও দেখিনাই। অবসায়নের আগেই সরকার অনেক ব্যাংককে বেইল আউট করে, যুক্তরাজ্যে নর্দার্ন রক ছিলো, আমাদের দেশে ফারমারস ব্যাংক যেমন, সরকার সেটি এখন নিয়ে চালিয়ে নিচ্ছে। আমানত কারীরা রাস্তায় বিক্ষোভ করছেনা। তাই এসব গুজব শেয়ার করা বাদ দিন।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার সরকার পরিচালনার উপরে আস্থা রাখুন। ব্যাংকে টাকা যাই রাখুন এক লাখ নিয়ে বাড়ি যেতে হবে, এই ধরনের অপপ্রচার করে দেশের আর্থিক খাতের বারোটা বাজানোর চেষ্টা করে লাভ হবে না। হাস্যকর এই কাজ থেকে বিরত থাকাই উচিৎ।

লেখক: ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা উপমন্ত্রী

সারাদিন/২৬ফেব্রুয়ারি/