শহীদ মিনার নেই মানিকগঞ্জের ঘিওরের বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও জাতীয় শহীদ দিবস ২১ ফেব্রুয়ারী। দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায়ও বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হয়। কিন্তু রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ৬৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এই উপজেলায় শহীদদের স্মরণে অধিকাংশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাগুলোতে কোনো শহীদ মিনার নেই।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকার দরুন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জানা গেছে, ঘিওর উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে ২২টি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়, ৬টি জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় ৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩টি মাদারাসা আছে। এর মধ্যে ৫টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৬টি জুনিয়র হাইস্কুল ৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩টি মাদ্রাসাসহ মোট ৮২টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই।

ফলে বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা শহীদদের প্রতি তাদের অনুভুতি ও শ্রদ্ধা জানাতে পারেনা। যাদের ত্যাগ, তিতীক্ষা ও রক্ষের বিনিময়ে বাংলাদেশ অভ্যূদয় ও ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিস্মারক এবং আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক সেই ৫২’র ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে বিদ্যালয়েগুলোতে শহীদ মিনার না থাকার দরুন অনেক শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ছাত্রছাত্রীরা স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মানের দাবি জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তবে কয়েকটি উচ্চ মাধ্যমিক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকলেও বছরে দুই বা তিনদিন ঝকঝকে চকচকে করে রাখা হয়।

বাকি দিনগুলোতে অযত্ন অবহেলা পরে থাকে। তবে অধ্যায়নরত অনেক শির্ক্ষাথীদের অমর ২১ ফেব্রুয়ারি ও ভাষা শহীদদের অবদান সম্পর্কে তাদের তেমন ধারনা নেই বললেই চলে। দিবসগুলোতে প্রতি বছর বিভিন্ন কর্মসুচির আয়োজন করা করা হলেও তাতে শেখার কিছু থাকেনা। ছাত্র-ছাত্রীরা দিবসগুলোকে বিশেষ ছুটির দিন হিসাবে জানে। নতুন প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস জানতে পারছেনা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা হাতেগোনা ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে। বছরের অধিকাংশ সময় শহীদ মিনারগুলো অযত্নে পরে থাকে। জাতীয় দিবসগুলোতে ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করা হয়। দিবস শেষে শহীদ মিনারের খবর আর কেউ রাখেনা। নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় অযত্ন অভিভাবকহীন পরে থাকে।

সব চেয়ে আশ্চর্য বিষয়, ঘিওর সদরে ৩/৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২টি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় আছে। দীর্ঘদিন যাবত অত্যন্ত সুনামের সাথে বিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখা হয়। শিক্ষিত, অভিজাত ও ধণাঢ্য পরিবারের সন্তানেরা এখানে পড়ালেখা করে। অথচ এসব বিদ্যালয়গুলোতেও শহীদ মিনার নেই। উপজেলার বেশ

কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাদিন ডট নিউজকে জানান, দীর্ঘদিন যাবত অত্যন্ত সুনামের সাথে আমাদের বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা পড়ালেখা করে। অথচ আমাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা (ভারপ্রাপ্ত) অফিসার মোঃ কবির হোসেন সারাদিন ডট নিউজকে জানান, উপজেলার ৮৪টি বিদ্যালয়ে বিদ্যালয় আছে। ৬৮ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। তবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মান করা প্রয়োজন।

ভাষা সৈনিক ও সাবেক শিক্ষক মোঃ মিরান উদ্দিন সারাদিন ডট নিউজকে জানান, ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস জানাতে সমস্ত বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার নির্মান করা প্রয়োজন। বহু ত্যাগ তিতিক্ষার এবং রক্তের বিনিময়ে আমারা বিজয় অর্জন করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ৬৮ বছর অতিবাহিত হবার পরেও আমরা দেশের সর্বস্তরে মাতৃভাষা বাংলার প্রয়োজন ও প্রচলনে ব্যর্থ হয়েছি। কেবল ফেব্রুয়ারি মাস এলেই আমরা বাংলা ভাষার ব্যপারে তৎপর হই। তবে সর্বক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলা ভাষার বাস্তবায়ন করা হোক ।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার সারাদিন ডট নিউজকে জানান, ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস জানার জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান করা প্রয়োজন। ‘উপজেলার কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে আর কোথায় কোথায় নেই তার একটি তালিকা তৈরী করেছি। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদে প্রত্যেক বিদ্যালয় প্রধানকে নিয়ে একটি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে শহীদ মিনার রী করা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।

সারাদিন/২০ফেব্রুয়ারি/টিআর/এএইচ