শোকে বিহ্বল চুড়িহাট্টা, ট্র্যাজেডির প্রথম বছরেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হয়নি

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, ১৯/০২/২০২০

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রথম বছর অতিক্রম করবে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি)। সেই অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জনের তাজা প্রাণ চলে যায়। সিলিন্ডার বিষ্ফোরন থেকে এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয়রা। বিভীষিকাময় সেই রাতে মানুষ পুড়ছিল তা দেখলে যে কারো জ্বর আসবে বলেও জানান এলাকাবাসীরা। তবে সেই মৃত্যুগুলোর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এখনও পায়নি পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, চকবাজারের মোড়ে মোড়ে এখনও কেমিক্যাল গোডাউন। তবে কেউ জানে না। সম্প্রতি এখান থেকে বিদেশী অবৈধ জনসন অ্যান্ড জনসন নামের সাবানের গোডাউন উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)। তবে এখনকার বেশির ভাগ বাড়ীওয়ালা থাকে নতুন ঢাকায়। তাই গোডাউন ভাড়ার ক্ষেত্রে কোনো কিছু যাচাই বাছাই ছাড়া ভাড়া দেওয়া হয়।

আর এখানকার এক পরিবার অন্য পরিবারের সাথে তেমন মিশে না। এসব কারণে এখানে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার মতো ঘটনা ঘটে বলে জানান এলাকাবাসী।

আবুল আসাদ নামের এক স্থানীয় সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, এখন আমরা আমাদের সুরক্ষার জন্য কোনো কিছুই করি নি। সব কেমন জানি সেই সময়ে কিছু আলোচনা হয়েছিল। তারপরে আর এসব নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চকবাজার চুড়িহাট্টা ওয়াহেদ ম্যানশনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুন ধরে। ওই ভবনের দুই ও তিন তলায় কেমিক্যাল গোডাউন থাকায় মুহূর্তে ভয়াবহ রূপ নেয় আগুন। ঘটনাস্থলেই পুড়ে অঙ্গার হয় ৬৭ জন। আর দগ্ধ ১৫ জনের মধ্যে ৪ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

লালবাগ বিভাগের ডিসি মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, আমরা এখনও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাইনি। সব সময় চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। চিকিৎসকরা বলছেন, রিপোর্ট দিতে একটু দেরি হবে। মরদেহের কিছু পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলেই দেবো।

তিনি বলেন, চুড়িহাট্টা ঘটনার পরপরই আসিফ নামে এক ব্যক্তি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছিলাম। ওই দুইজন বর্তমানে জামিনে আছেন। আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করতে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ বা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অতি জরুরি। সেটা পেলেই আমরা আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করবো।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আশাকরি বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মরদেহের ডিএনএ রিপোর্ট এক সপ্তাহ আগে আমরা হাতে পেয়েছি। তাছাড়া আমাদের এক চিকিৎসক বদলি হওয়ার কারণে একটু দেরি হয়েছে।

তিনি বলেন, আশাকরি বুধবার ৬৭টি মরদেহের মধ্যে অধিকাংশ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পুলিশের কাছে দেওয়া হবে। এছাড়া যে চিকিৎসক বদলি হয়েছেন তিনি এলেই বাকি রিপোর্টগুলো তার সই নিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে গিয়ে তাদের নথিতে দেখা যায়, ৬৭ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

সারাদিন/১৯ফেব্রুয়ারি/টিআর