তাপস পালের মৃত্যুতে মমতা ও তারকাদের শোক

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ণ, ১৮/০২/২০২০

টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা তাপস পালের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় বাংলা সিনেমার ইন্ড্রাষ্ট্রিতে। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান।

জনপ্রিয় এই অভিনেতার মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়সহ টলিপাড়ার খ্যাতিমান তারকা ও নির্মাতারা শোক জানিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটারে লিখেছেন, ‘তাপস পলের মৃত্যুর কথা শুনে আমি দুঃখিত ও হতবাক। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের একজন সুপারস্টার ছিলেন ও তৃণমূল পরিবারের সদস্য ছিলেন। তাপস দ্বি-মেয়াদী এমপি এবং বিধায়ক হিসাবে জনগণের সেবা করেছিলেন। আমরা তাকে খুব মিস করব। তার স্ত্রী নন্দিনী, কন্যা সোহিনী এবং তার অনেক ভক্তের প্রতি আমার সমবেদনা।’

প্রখ্যাত নির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত বলেন, তাপস পালের মত প্রতিভাধর অভিনেতা টালিগঞ্জে কার্যত ছিল না। রাজনৈতিক মতামতের বাইরে সকলে অভিনেতা তাপসের গুণমুগ্ধ। তার সমতুল্য অভিনেতা বর্তমান টালিগঞ্জে নেই।

অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, এক ভাইকে হারালাম। পরপর ভাল অনেক সিনেমা করেছে ও। ‘দাদার কীর্তি’ ও ‘সাহেব’র মতো সিনেমাগুলো ভোলা যায় না। কিন্তু শেষের দিকে ও হারিয়ে গেল। রাজনৈতিক একটা বক্তব্যের জন্য আড়ালে চলে গেল। আজ তার মৃত্যুর সংবাদ পেলাম। কিন্তু দেহ চলে গেলেও ওর আত্মা থেকে যাবে। খুব খারাপ লাগছে আমার।

আরেক বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক শোকবার্তায় বলেন, খবরটা শুনে খুব খারাপ লাগছে। আমরা অনেক সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছি। সবগুলোই দর্শক নন্দিত। এর মধ্যে ‘গুরুদক্ষিণা’র মতো সিনেমাও রয়েছে। খবরটা শুনে মন খারাপ হয়ে গেল। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করেছি তো। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।

তাপসের মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। তিনি বলেন, আমি ভাবতে পারছি না উনি নেই। অকালে চলে গেলেন। আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো ছিলেন। আমরা একসঙ্গে কম সিনেমা করেছি? তাপস দা বাঙালি দর্শকের কাছে এমন একজন নায়ক যার ফুটপ্রিন্ট ততদিন থাকবে, যতদিন বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থাকবে।

শোকবার্তায় পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী বলেন, কখনও মনে হয়নি ও অভিনেতা, আমি পরিচালক। আমাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। আমাদের একসঙ্গে ওঠাবসা ছিল। ‘গুরুদক্ষিণা’ থেকে শুরু করে সংঘর্ষ, অনেক সিনেমা করেছি ওর সঙ্গে। সে নেই, আর ভাবতেই পারছি না।

গুণী এই অভিনেতা ১৯৫৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হুগলির চন্দননগরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। তরুণ মজুমদার পরিচালিত ‘দাদার কীর্তি’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে এই অভিনেতার। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাৎ করেছেন তিনি। সিনেমাটির ব্যবসায়িকসাফল্য তাকে রাতারাতি সুপারস্টার বানিয়ে দেয়।

সারাদিন/১৮ফেব্রুয়ারি/টিআর/এএইচ