তেওতা জমিদার বাড়ি এখন চরম অবহেলার শিকার

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতামানিকগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ণ, ১৪/০২/২০২০

মানিকগঞ্জ জেলার পর্যটন স্থান গুলোর মধ্যে শিবালয় উপজেলার তেওতা গ্রামে অবস্থিত তেওতা জমিদার বাড়ি অন্যতম। বছরে প্রায় ২০ হাজারের অধিক পর্যটক এখানে ভ্রমণ করতে আসে।

ইতিহাসবিদদের মতে,১৭শ এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণ করেছিলেন পঞ্চানন সেন নামক এক জমিদার।

জনশ্রুতি অনুসারে,পঞ্চানন সেন এক সময় খুবই দরিদ্র ছিলেন।পরে তিনি দিনাজপুর অঞ্চলে তামাক ব্যবসা প্রচুর ধনসম্পদের মালিক হওয়ার পর এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করে বাবু জয়শংকর রায় চৌধুরী ও বাবু হেমশংকর রায় চৌধুরী নামে দুইজন ব্যক্তি। ভারত বিভক্তির পর তারা দুইজনই ভারতে চলে যায়।

এছারাও এখানে রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিচিহ্ন। এ প্রাসাদেই কাজী নজরুল ইসলাম প্রমীলার প্রেমে পড়েন। তাই তিনি লিখেছিলেন, ‘তুমি সুন্দর তাই, চেয়ে থাকি প্রিয়, সেকি মোর অপরাধ….)

তেওতা জমিদার বাড়িটি মোট ৭ দশমিক ৩৮ একর জমির উপর স্থাপিত। মূল প্রাসাদের চারপাশে রয়েছে আরও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও একটি বড় পুকুর। প্রাসাদের মূল ভবনটি লালদিঘী ভবন নামে পরিচিত। এখানে একটি নাটমন্দির রয়েছে।

এছাড়াও এখানে নবরত্ন মঠ সহ আরো বেশ কয়েকটি মঠ। সবগুলো ভবন মিলিয়ে এখানে মোট কক্ষ রয়েছে ৫৫ টি। তার মধ্যে চারটি কক্ষে গড়ে তুলা হয়েছে নজরুল স্মৃতি জাদুঘর।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো,বর্তমানে তেওতা জমিদার বাড়িটি চরম অবহেলার স্বীকার হয়ে রয়েছে। ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।ভবনের বেশিরভাগ জায়গায় ধ্বংসাস্তুপ পড়ে রয়েছে। ভবনটি সংস্কারের কোন উদ্দোগ নেওয়া হচ্ছে না। রাতের আধারে ভবনগুলোর ভিতর নানা অসামাজিক কার্জকলাপ হচ্ছে।

এবিষয়ে তেওতা জমিদার বাড়ির দ্বায়িত্যপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, লোকবল সংকটের কারণে তেওতা জমিদার বাড়ির ঠিকমতো দেখাশুনা করা সম্ভব হচ্ছে না। আর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোন বরাদ্দ না আসায় সংস্কারের কাজগুলো শুরু করা যাচ্ছে না। তবে অচিরেই লোকবল সংকটের সমস্যা দূর হবে এবং আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে খুব দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা যায়।

তেওতা জমিদার বাড়িতে যাওয়ার পূর্বে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় কোন বাস,প্রাইভেটকার ও বড় কোন যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না।রিকশা ও মটর সাইকেল অথবা পায়ে হেটে যাওয়া ছাড়া সেখানে যাওয়ার অন্য কোন উপায় নেই। ফলে পর্যটকদের এখানে আসতে অনেক সমস্যা পোহাতে হয়।

এবিষয়ে তেওতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাদের সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, এই রাস্তাটি খুবই অপ্রসস্থ যার ফলে এলাকাবাসী ও পর্যটকদের খুবই সমস্যা হয়।আমরা রাস্তাটি প্রসস্থকরণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।কিন্তু তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

মানিকগঞ্জ জেলার পর্যটন স্থান গুলোর মধ্যে তেওতা জমিদার বাড়ি অন্যতম। দিনদিন এর পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই তেওতা জমিদার বাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে স্কুল,ইউনিয়ন পরিষদ,ভূমি অফিস সহ অনেক কিছু।
এলাকাবাসীর একটাই দাবী দ্রুত উপরস্থ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এর সংস্কার কাজ গ্রহণ করা হোক।

সারাদিন/১৪ফেব্রুয়ারি/টিআর