ঋতুরাজ বসন্ত আর ভালোবাসা দিবসে বন্ধন দৃঢ় করার প্রত্যয়

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, ১৪/০২/২০২০

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ শুক্রবার। ইংরেজীতে যাকে বলে ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আসলে এটি পালন করা হয় ১৪ ফেব্রুয়ারিতে। বিশ্ব ভালোবাসার শাশ্বত দিনটির সাথে শামিল হয়েছে বাংলাদেশও। এছাড়া এই প্রথমবারের মতো সৌদী আরবেও ভালোবাসা দিবস পালিত হচ্ছে।

বাংলা বর্ষপঞ্জির পরিবর্তনের কারণে, এবার এই দিনের উদযাপন মিশেছে, বসন্তবরণের সাথেও। উৎসবের এই রঙে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের বন্ধন, আরও দৃঢ় ভালোবাসা ও প্রেমের দিকে যেন প্রতিটি মানুষের বন্ধন মিলে যায়, তার প্রত্যাশা সবার।

তবে এবার বাঙ্গালীদের জন্য এই দিনটি খুবই ভালো। কারণ বসন্তের রঙ্গে হলুদ শাড়ী ও হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে অনেকেই এই দিনটি পালন করতে দেখা গেছে রাজধানীর সব জায়গায়। আবার কেউ কেউ এই দিনে লাল গোলাপ কিনে বয় ফ্রেন্ড কিম্বা গার্ল ফ্রেন্ডকে দিচ্ছে।

এক-দুই বছর নয়, পাক্কা দেড় দশক ধরে এই ফুলের সাথেই থাকা আব্দুল মতিন। ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখ রাজধানীর শাহবাগের এই ফুল বিক্রেতার কাছে আলাদা।

আর যারা ফুল কিনেন… তারা? তবে ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসার ইতিহাস হয়তো দিবসটির প্রবর্তন করেছে। কিন্তু হৃদয় দেয়া-নেয়া, সে তো চিরন্তন।

কিন্তু মুদ্রার অপর পিঠও আছে যারা ঘটা করে পালন করেন না এইসব দিবস, তাদের মনেও ভালোবাসা আছে। প্রকাশটা হয়তো অন্যরকম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আজকের এই দিনে নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে সকলের পোশাকে বসন্তের আবিরে একাকার। প্রাণের এ উৎসবে সবাই মেতে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। বসন্তের রং ছড়িয়ে পড়েছে দোয়েল চত্বর, শাহবাগ বইমেলা সবখানে। তবে রাজধানীর গুলশানের কোকিলটিও কুহুতানে মেতে উঠেছে। জানান দিচ্ছে বসন্ত এসে গেছে।

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭ টায় এসো মিলি প্রাণের উৎসবে এমন স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ আয়োজন করেছে বসন্ত অনুষ্ঠানের।

বসন্তের বিভিন্ন গান, কবিতা, নৃত্যে বকুলতলা ভরে উঠেছে বাঙালির মিলন মেলায়। গায়ে রঙিন বসন, খোঁপায় নানা রঙের ফুল দিয়ে বকুলতলায় জড়ো হয়েছেন তরুণীরা। প্রিয়জনের দেয়া ফুলে খোঁপা রাঙিয়ে লজ্জায় লুটোপুটি খাচ্ছে ললনার কোমল বদন।

ছবিতে মডেল হয়েছেন সোহানি হাসান: ছবি সারাদিন ডট নিউজ

এবার বসন্তের সঙ্গে ভালোবাসা দিবস যোগ হওয়ায় শাহবাগে ফুলের বিপণন বেড়েছে দ্বিগুণ। শুধু শাহবাগ নয় নগরীর বিভিন্ন গলির মোড়ে মোড়েও বসেছে অস্থায়ী ফুলের দোকান। ভিড় করছে তরুণীরা।

রঙিন শাড়ীতে ধানমন্ডি লেকে থেকে বসন্ত উদযাপন করতে এসেছে তুলি নামের একটি মেয়ে। কথা হয় সারাদিন ডট নিউজ এর সঙ্গে। তিনি বলেন, বসন্তের প্রথম দিন সকালে উঠে তৈরি হয়ে চলে আসি লেকে। বয় ফ্রেন্ড আছে তো। কি আর করার। তবে শাহবাগের বকুলতলায় এসেছেন আব্দুল মান্নান নামের আরেক শিক্ষার্থী। তিনি সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, এখানে না এলে যেন বসন্তের আনন্দটা কিছুটা ফিকে থেকে যায়।

শিশু তন্ময় কমলা রঙের শাড়ি আর লাল টিপ পরে মায়ের সঙ্গে বসন্ত উদযাপন করতে সকালে চলে এসেছে বকুলতলায়। সে বকুলতলার গানের সঙ্গে গলা মেলানোর চেষ্টা করছিল। তনিমা হাসিমুখে বলে, আমার খুব ভালো লাগছে শাড়ি পড়েছি, সেজেছি, মাথায় ফুল লাগিয়েছি, গান শুনছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ আশরাফুল হলুদ পাঞ্জাবিতে নিজেকে রাঙিয়ে এসেছে, হাতে গাঁদা ফুলের মালা। অনিক বলে, এলোমেলো দক্ষিণের মলয়রে.. বকুলতলায় গানের মতোই দক্ষিণের মলয় বসন্ত এলোমেলো করে দেয়। সত্যি এটা প্রাণের উৎসব।

এ সময় বকুলতলা মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাট্যজন রামেন্দ্র মজুমদার বসন্তের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, চারদিকে এতো রং দেখে কার না মন রঙিন হয়। এখানে আসলে মন এত প্রসন্ন হয়ে যায়। আমাদের এই দেশ ঋতু বৈচিত্রের দেশ। ঋতু পরিবর্তন শুধু প্রকৃতিতে নয় মানুষের মধ্যেও ঘটে। আমাদের লক্ষ্য হোক প্রত্যেক মানুষকে আমরা শ্রদ্ধা করবো ভালোবাসবো।

সারাদিন/১৪ফেব্রুয়ারি/টিআর