আজ মেলায় নতুন বই এসেছে ১৫৪টি

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ, ১৩/০২/২০২০

অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১১তম দিন ছিল বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। মেলা চলে দুপুর তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত। মেলায় বুধবারই নতুন বই এসেছে ১৫৪টি।

বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অনুপম হায়াৎ রচিত বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাজেদুল আউয়াল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মোরশেদুল ইসলাম ও মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন অনুপম হায়াৎ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

প্রাবন্ধিক বলেন, অনুপম হায়াৎ রচিত বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধুর আমলে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন ও নানা প্রসঙ্গ, চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি পথে বিচ্ছুরিত আলোর মন্তাজ শীর্ষক অধ্যায়-বিন্যাসে বঙ্গবন্ধুর সাংস্কৃতিক সত্তাকে পরিস্ফুট করা হয়েছে।

নিষ্ঠাবান গবেষক তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে এই বিশেষ কাজটিকে পূর্ণতা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে নানা সময়ে নির্মিত তথ্যচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র প্রভৃতিতে বঙ্গবন্ধুর নানামুখী উপস্থাপনের বৃত্তান্তও তিনি তুলে ধরেছেন যদিও এ বিষয়ে আরও প্রামাণ্যতার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের একটি গ্রন্থ বঙ্গবন্ধুপ্রেমী এবং একই সঙ্গে চলচ্চিত্র-উৎসাহীজনদের কাছে প্রয়োজনীয় সংগ্রহ হিসেবেই আদৃত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিকাশ ও উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সরকার কর্তৃক গৃহীত নানামুখী গঠনমূলক পদক্ষেপ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে উন্নয়নের ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে।

আলোচকরা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাংস্কৃতিক চেতনা ও আদর্শকে অনুসরণ করে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং জাতির পিতাকে নিয়ে চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তাঁর জীবন ও কর্ম বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে হবে।

গ্রন্থের লেখক বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে গবেষণা ও গ্রন্থ প্রণয়ন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের অভিজ্ঞতা। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন রাজনৈতিক বিপ্লবের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পথরেখাও নির্মাণ করতে হবে। আমি আশা করি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের পর্দা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আলোতে আবার ঝলমল করে উঠবে।

সভাপতির বক্তব্যে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধু কেবল মহান রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সংস্কৃতিমনা। বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক আকাক্সক্ষা ও রাজনৈতিক স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মে।

আর আজকে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১২তম দিন। মেলা চলছে দুপুর তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত। বিকেল চারটায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুব্রত বড়ুয়া রচিত বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন সুজন বড়ুয়া।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন খালেদ হোসাইন, লুৎফর রহমান রিটন এবং মনি হায়দার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সারাদিন/১৩ফেব্রুয়ারি/টিআর