স্বাধীনতার সুফল বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ পাবে: প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, ১৩/০২/২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতার সুফল বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ পাবে। শহরে সাধারণ মানুষ যেমন নাগরিক সুবিধা পায়, গ্রামের মানুষও সেই নাগরিক সুবিধা পাবে। প্রতিটি গ্রাম হবে শহরের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নগর।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪০তম জাতীয় সমাবেশে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির এ আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। এই স্বাধীনতার সুফল বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ পাবে। শহরে সাধারণ মানুষ যেমন নাগরিক সুবিধা পায়, গ্রামের মানুষও সেই নাগরিক সুবিধা পাবে। প্রতিটি গ্রাম হবে শহরের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নগর।’

পাশাপাশি একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। সমাবেশে দেশের উন্নয়নে অগ্রযাত্রায় আনসার ভিডিপির ভূমিকার প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা।

সরকারের উন্নয়ন কাজে এই বাহিনীকে সম্পৃক্ত করতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আনসার ও ভিডিপি বাহিনীকে উন্নয়ন কাজে আরও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। আপনারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাবেন সে আশা পোষণ করছি।

‘জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে দায়িত্বপালনসহ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও মৌলবাদ নির্মূলে আনসার বাহিনী বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। বিমান বন্দরের নিরাপত্তায় এ বাহিনীর সদস্যরা ‘এভসেক (এভিয়েশন সিকিউরিটি)’ এর অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। দেশ ও জনপদকে নিরাপদ রাখতে দুইটি নারী ব্যাটালিয়নসহ এ বাহিনীতে ৪২টি আনসার ব্যাটালিয়ন রয়েছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকায় এ বাহিনীর ১৬টি ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে অপারেশনাল ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া নবগঠিত আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা কূটনৈতিক এলাকা, কূটনৈতিক ব্যক্তি এবং দেশের বিশিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

খেলাধুলায় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সফলতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ বাহিনীর সদস্যরা খেলাধুলা ও দেশীয় সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বাড়াচ্ছে। সদ্যসমাপ্ত এসএ গেমসে বাংলাদেশের অর্জিত ১৪২টি পদকের মধ্যে ৬৮টি পদক অর্জন করেছে এ বাহিনীর খেলোয়াড়রা। তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ৬১ লাখ সদস্য রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘আনসার ব্যাটালিয়ন আইন’ প্রণয়ন করার কার্যক্রম সরকার হাতে নিয়েছে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স ও আম্রকাননের নিরাপত্তার জন্য দু’টি আনসার ব্যাটালিয়ন গঠনের কার্যক্রম প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

একটি গার্ড ব্যাটালিয়নসহ চারটি আনসার ব্যাটালিয়ন গঠন, ব্যাটালিয়নের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করে জনবল বৃদ্ধি, আনসার ও ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, ঝুঁকিভাতা প্রবর্তনসহ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের জনগণের উন্নয়নের সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন এই স্বাধীনতার সুফল বাংলার প্রতিটি মানুষ পাবে। প্রতিটি গ্রামকেই আমরা, মানুষ যেন শহরের সুবিধা পায়, গ্রামের মানুষও নাগরিক সুবিধা পাবে, প্রতিটি গ্রাম হবে শহরের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নগর।

দৃষ্টান্তমূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবছর ১৪৩ জনকে ‘সেবা’ ও ‘সাহসিকতা’ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে বিকাল সাড়ে ৪টায় সংসদ অধিবেশনে যোগদান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৮০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনসার বাহিনী গঠন করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর এই দিনে বাহিনীর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সারাদিন/১৩ফেব্রুয়ারি/টিআর