শিশু জিহাদের মৃত‌্যুর মামলায় হাইকোর্টে সব আসামি খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, ১২/০২/২০২০

ঢাকার শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে পরিত্যক্ত পানির পাম্পের পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত‌্যুর মামলায় চার আসামির সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার ( ১২ ফেব্রুয়ারি) আপিলের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও বিচারপতি এস এম আব্দুল মবিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত এক রায়ে চার আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। তাদের ২ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকি দুই আসামি খালাস পান।

দণ্ডিতরা হলেন- শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে পানির পাম্প বসানোর প্রকল্প পরিচালক রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসআরের মালিক প্রকৌশলী আব্দুস সালাম ওরফে শফিকুল ইসলাম, কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন ও ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার জাফর আহমেদ শাকি। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দণ্ডিতরা। ওই আপিল গ্রহণ করে হাইকোর্ট খালাসের রায় দেন।

২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে বাসার কাছে রেলওয়ে মাঠের পাম্পের পাইপে পড়ে যায় জিহাদ। প্রায় ২৩ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর ২৭ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে জিহাদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় জিহাদের বাবা নাসির ফকির ফৌজদারি আইনের ৩০৪/ক ধারায় ‘দায়িত্বে অবেহেলায় জিহাদের মৃত্যু’র অভিযোগে শাহজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর ছয় আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ‘এসআর হাউজ নামক প্রতিষ্ঠান শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মৈত্রী সংঘ মাঠের পূর্ব দক্ষিণ কোণে একটি পানির পাম্পের ঠিকাদারি নিয়ে আনুমানিক ৬০০ ফুট কূপ খনন করে। কিন্তু কূপের মুখ খোলা রেখে কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে অবহেলা ও তাচ্ছিল্য ভরে তা দীর্ঘদিন ফেলে রাখে। শিশু জিহাদ (৩) ওই স্থানে খেলা করতে গিয়ে পাইপের ভেতরে পড়ে মারা যায়।’

সারাদিন/১২ ফেব্রুয়ারি