উচ্চশিক্ষায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অনাগ্রহ ঢাবি ও বুয়েটের

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ১:৪৫ অপরাহ্ণ, ১২/০২/২০২০

উচ্চশিক্ষায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট সহ চার ও পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছে। দেশের ২৮টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সভা করে আসন্ন শিক্ষাবর্ষ (২০২০-২১) থেকেই সমন্বিত বা কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে অনলাইনে ভর্তির আবেদন নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিরীণ আখতার বলেন, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্বায়ত্তশাসিত চারটি বিশ্ববিদ্যালয় এই পদ্ধতিতে রাজি না হলে তাঁদের পক্ষে এই প্রক্রিয়ায় যাওয়া কঠিন হবে।

মঙ্গলবার সভায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই অনাগ্রহ থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষা বিষয়ক যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিষদ ও ডিনস কমিটির। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হবে।

বর্তমানে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি শিক্ষার্থী ভর্তি করে না।

৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ৫৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হন। এ জন্য ভর্তি পরীক্ষায় কয়েক লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেন। ইউজিসির চেষ্টা হলো দোদুল্যমান থাকা স্বায়ত্তশাসিত চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটকেও এই প্রক্রিয়ায় রাজি করানো।

এ জন্য বুধবার (১২ জানুয়ারি) ইউজিসিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। চেষ্টার পরেও যদি ‘স্বাতন্ত্র্যের’ কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রক্রিয়ায় না আসে, তাহলে তাদের বাদ দিয়েই আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

ভর্তি–ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের দুর্ভোগ কমাতে কয়েক বছর ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত বা গুচ্ছ ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় তাতে রাজি হয় না।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দফতরের অফিস সহকারী হাসান বলেন, এখন রেজিষ্টার স্যার জরুরী মিটিং এ বসেছেন। তিনি আসলে তাকে ফোন দিতে পারবো। তবে ঢাবির উপাচার্যের দফতরে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অভিযোগ রয়েছে, মূলত ভর্তির ফরম বিক্রি বাবদ বিরাট অঙ্কের টাকার আয় থেকে শিক্ষকেরা বঞ্চিত হওয়ার ভয়েই এই পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজি হতে চায় না।

এই প্রক্রিয়ায় ভর্তি পরীক্ষা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একাধিকবার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে গত বছর (চলতি শিক্ষাবর্ষ) সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিতভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর ২৩ জানুয়ারি ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ দুই বা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাগ্রহ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রক্রিয়া এসেছে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহর পক্ষ থেকে।

এই অনাগ্রহের বিষয়ে তিনি সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের সিদ্ধান্তহীনতার জন্য গোটা জাতির আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থাকতে পারে না। কারও ‘ইগো’ যেন অন্যদের প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

সারাদিন/১২ফেব্রুয়ারি/টিআর