জমকালো আয়োজনে শেষ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদকতথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৭ অপরাহ্ণ, ১০/০২/২০২০

আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ১৬তম বেসিস সফটএক্সপোর পর্দা নেমেছে রবিবার রাতে, জমকালো আয়োজন আর পুরষ্কার বিতরণির মধ্য দিয়ে।

প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে ১৬তম বেসিস সফটএক্সপো’র সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী জনাব টিপু মুনশি, এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি।

তিনশ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে এবারের বেসিস সফটএক্সপো ২০২০ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় আইসিটি এক্সপো হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ বছর সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করেছেন বেসিস সফটএক্সপো-এর ১৬তম আসরে।

বেসিস সফটএক্সপো ২০২০ এর আহ্বায়ক এবং বেসিস-এর সহ-সভাপতি (অর্থ) মুশফিকুর রহমান বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকি লগ্নে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সহায়ক হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার বেসরকারি খাতের তথ্যপ্রযুক্তির সবচেয়ে বড় আয়োজন বেসিস সফটএক্সপো ২০২০ আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বেসিস এর ইতিহাসে প্রথমবারের মত সফটএক্সপোতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আগমন অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত মেলায় প্রায় সাড়ে চার লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হয় এবং সকল এক্সিবিটর মেলার আয়োজনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, দেশের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণে এই এক্সপোর আয়োজন করা হয়। এতে তিনশো প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। চারদিনে আমরা নানা আয়োজনে দেশে এবং বিদেশে স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা তুলে ধরতে সফল হয়েছি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নারীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে উইমেন জোন থেকে সেরা এক্সিবিটর হিসেবে পুরষ্কার পেয়েছে এলিগ্যান্ট আইটি লিমিটেড। পাশাপাশি, সেরা প্যাভিলিয়ন নির্বাচিত হয়েছে সফটওয়্যার শপ লিমিটেড- এসএসএল ওয়্যারলেস, ২য় হয়েছে জুপিটার টেকনোলজিস প্রাইভেট লিমিটেড, ৩য় হয়েছে আইসিসি টেলিসার্ভিসেস। সেরা মিনি প্যাভিলিয়ন নির্বাচিত হয়েছে রেড ডট, ২য় হয়েছে আম্বালা আইটি, ৩য় হয়েছে টিকন সিস্টেম লিমিটেড। সেরা স্টল নির্বাচিত হয়েছে এক্সপ্রেস সিস্টেম লিমিটেড, ২য় হয়েছে ব্র্যাক নেট, ৩য় হয়েছে কম্পিউটার গ্রাফিক্স অ্যান্ড ডিজাইন লিমিটেড।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে জে এ এন এসোসিয়েটস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল এইচ কাফি ও লিডস কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব শেখ আব্দুল আজিজকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বেসিস সফটএক্সপো ২০২০-এর নতুন সংযোজন প্রজেক্ট ইনোভেশন জোনের ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫টি প্রকল্পের মধ্যে শীর্ষ ৫টি প্রকল্পকে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশিয় সফটওয়্যার নির্মাতাদের জন্য বেসিস সফটএক্সপো এ অ লের সর্ববৃহৎ প্ল্যাটফর্ম। স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল ভিত্তি। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নিরলস অবদানের কারণেই। বেসিস সফটএক্সপো স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা তুলে ধরেছে। সরকারি-বেসরকারি খাতে দেশি সফটওয়্যারের গুণগত আর কৌশলগত মান তুলে ধরতে বেসিস কাজ করে যাবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান অতিথি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বেসিস একে অপরের সাথে জড়িত। গত ১১ বছরে সরকার যতগুলো নীতি গ্রহণ করেছে তার সবগুলোই বেসিসের সঙ্গে আলোচনা করেই করেছে। বাংলাদেশ আজ সফটওয়্যার রপ্তানিতে বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করছে। আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের সার্ভিস ডিজাইন ল্যাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেখা গেছে সরকারের ৯০ শতাংশ সেবার ডিজিটাল রূপান্তরের প্রথম ধাপে গৃহীত ২৮০০ সেবার ডিজিটাল করণের অভিযাত্রায় ৬০০ সেবা ইতিমধ্যে রয়েছে। আরো ২২০০ সেবা ডিজিটাল প্লাটফর্মে আনার কাজ চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইসিটি বিভাগ, এটুআই এবং বেসিস সমন্বিত ভাবে কাজ করার ফলে এসব সেবা ডিজিটাল প্লাটফর্মে আনা গেছে। যে সফটওয়্যার দরকার তা বিদেশ থেকে আমদানী না করে, দেশের তথ্য বিদেশী কোম্পাপানীর কাছে হস্তান্তর না করে দেশীয় সফটওয়্যার কোম্পানির মাধ্যমেই দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে। পাইলট প্রকল্প দিয়ে বেসিস সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ৫ বছরের মধ্যে উইপ্রো, ইনফোসিস এর মতো বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হবে। এর প্রথম উপহার বেসিস ই-গভঃ হাব। আগামী ২ বছরে সরকারের যে দুই হাজার কোটি টাকার সফটওয়্যার প্রয়োজন হবে তা দেশীয় কো¤পানির মাধ্যমে করা হবে।