পঙ্গপালের আক্রমণে আফ্রিকায় খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ, ০৮/০২/২০২০

মরু পতঙ্গ পঙ্গপাল আফ্রিকার দেশগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এসব প্রতঙ্গ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এতে এ অঞ্চলে চরম খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ বলছে, পঙ্গপাল দ্রুতই ৩০টি দেশে ছড়িয়ে পড়বে এতে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে অনুন্নত এসব দেশে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, দ্য হর্ন অব আফ্রিকা নামে পরিচিত ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, জিবুতি ও সোমালিয়ায় পঙ্গপালের আক্রমণে খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা চরম হুমকির মুখে। বর্তমানে ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ায় ঝাঁকে ঝাঁকে বাড়ছে পঙ্গপাল। এটা এখন কেনিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম, উগান্ডার উত্তর-পূর্বের ২০০ কিলোমিটার ও দক্ষিণ সুদানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে হানা দিচ্ছে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, সামগ্রিক পরিবেশ অনুকূল হওয়ায় পঙ্গপাল আরও কয়েক মাস জীবিত থাকবে, তাদের বংশবৃদ্ধি ও আক্রমণের ফলে সেখানে আরও ফসলহানি হবে। উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানে ব্যাপকহারে এটা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সুদান ও মিসরের উপকূলবর্তী এলাকায় বড় ধরনের ঝাঁকে পরিণত হয়েছে এই পতঙ্গ।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়া, ইথিওপিয়া ও সোমালিয়া এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ৷ সেই সঙ্গে আফ্রিকার আরও ১৪ টি দেশেও ছড়িয়েছে এই পতঙ্গ৷ লোহিত সাগরের দুইপাড়েও সমান তালে বাড়ছে এদের আধিপত্য৷ সুদান, মিসরের উপকূল থেকে শুরু করে দক্ষিণ পশ্চিম সৌদি আরবেও চলছে বংশবিস্তার৷ ওমানের পূর্ব উপকূল থেকে শুরু করে ভারত-পাকিস্তান পর্যন্ত পৌঁছেছে তারা।

জাতিসংঘ বলছে, জিবুতি ও ইরিত্রিয়ায় ৩৬ হাজার কোটি পতঙ্গের আক্রমণে খাদ্য নিরাপত্তায় অভূতপূর্ব হুমকি তৈরি হয়েছে। নতুন ধরনের পঙ্গপালের দশ লাখ পতঙ্গের একটি ঝাঁক এক দিনে ৩৫ হাজার মানুষের খাবার খেয়ে ফেলতে পারে। আগামী এপ্রিলে এই পঙ্গপাল নতুন করে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

জাতিসংঘের আশঙ্কা এদের ঠেকাতে না পারলে জুন নাগাদ তাদের সংখ্যা ৫০০ গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে৷ পৌঁছাতে পারে ৩০ টি দেশে৷ আরও খারাপ পরিস্থিতিতে বিশ্বের ২০ ভাগ ভূমি খুব সহজেই আক্রান্ত হবে৷ ১০ ভাগের এক ভাগ মানুষের বেঁচে থাকার মত খাবারের অভাব দেখা দিবে৷

জানা গেছে, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য আর দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে মরু পতঙ্গদের বসবাস৷ এসব অঞ্চলে বছরে বৃষ্টিপাত হয় আট ইঞ্চিরও কম৷ গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘হর্ন অব আফ্রিকার’ দেশগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০০ ভাগ পর্যন্ত বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে৷ এতে পঙ্গপালের বংশবিস্তারে বেড়েছে।

সারাদিন/৮ফেব্রুয়ারি/ এএইচ