অগণন ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন টিংকু ভাই

ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়াডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া
প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ণ, ০৮/০২/২০২০

আজ টিংকু ভাই এর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী। দেখতে দেখতে আটটি বছর পেরিয়ে গেল। কিন্তু এখনো মনে হয় না তিনি নেই। আমি বিশ্বাস করি, যে বা যারা টিংকু ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাদের কাছে টিংকু ভাই এখনও দেদীপ্যমান, ভাস্বর। এত বিশাল হৃদয় ও আধুনিক মানসিকতার মানুষ-শুভার্থী ও স্বজনদের মাঝে চির ভাস্বর ও জাগরূক থাকবেন তাই স্বাভাবিক। অসীম সাহসী ও অনুপ্রাণিত, উজ্জীবিত করার মত মানুষ ছিলেন টিংকু ভাই। কোন কিছুই অসম্ভব না- এই ধ্যান-ধারণা লালন করতেন সব সময়। যে বা যারা তাঁর সংস্পর্শে একবার এসেছেন, তাদের কাছে এই ধারণা সঞ্চারিত করতেন।

‘৯০ দশকের ছাত্র আন্দোলনের কিংবদন্তী নেতা; যিনি চলনে-বলনে ও আধুনিকতায় অন্যদের চেয়ে অনন্য ছিলেন। অসম্ভব কর্মী-বান্ধব বন্ধু-সুলভ টিংকু ভাই সহজেই সাধারণ মানুষের আপন হয়ে যেতেন। জটিল বিষয় সহজভাবে কর্মীদের মাঝে সঞ্চালন করতেন সহজেই। ১৯৯৪-সালে বিএনপি সরকারের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উচ্ছ্বাস’-এর নবীন-বরণ মাধ্যমে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও ছাত্রলীগের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সময় টিংকু ভাইয়ের অবদান ছিল চির ভাস্বর, চির অম্লান।

প্রিয় টিংকু ভাই, উচ্ছ্বাস’-এর নবীন-বরণে আপনি বিশেষ অতিথি ছিলেন এবং আপনার বক্তব্য এখনও কানে বাজে। নিজে ড্রাইভ করে এলেন, আপনার পাশে বসে ছিলাম আমি, কত গল্প কত কথা-এখনো স্মৃতিপটে অমলিন। ঐদিন ২০২০-এর একুশে বইমেলায় ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন-এর সাথে আড্ডার সময় টিংকু ভাইয়ের কথা বলতেই, তিনি ‘উচ্ছ্বাস’-এর অনুষ্ঠানে টিংকু ভাইকে নিয়ে অনেক স্মৃতি কথা বলেন। কারণ, লুৎফর রহমান রিটন-ও ঐ অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মানুষকে উজ্জীবিত করার মত অসম্ভব ক্ষমতা ছিলো আপনার। ঢাকার পল্টন, সেগুনবাগিচা ও মগবাজার আপনার বাসা জুড়ে অগণিত স্মৃতি চোখের জলে একে যায় এখনো। শুধু ঢাকায় নয়, চট্টগ্রামে শেঠ বাড়িতে আপনি যখন আসতেন হরেক রকমের মাছ রান্না হতো। সমাজ-রাজনীতি আর দেশ নিয়ে আপনার চিন্তা চেতনা আড্ডাবাজির অংশ ছিল। শুধু নিজের পরিবার-পরিজন নয়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ও জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি নেতাকর্মীকে নিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার ভাবনা ছিল সদা।

বলা বাহুল্য, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতিতে আজকের প্রতিষ্ঠিত অনেককেই তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আপনি বেঁচে থাকলে দেশ জাতি অনেক সমৃদ্ধ হতো। দুর্ভাগা আমরা। ক্ষণজন্মা টিংকু ভাইয়েরা বেশিদিন বাঁচেন না, বেঁচে থাকেন না। টিংকু ভাইয়ের ধ্যান-ধারণা ও চিন্তা-চেতনা বর্তমান প্রজন্মের কাছে সঞ্চালন করতে হবে। তাতেই তিনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তরুণ সমাজের আদর্শ হয়ে বেঁচে থাকবেন।

আমরা যারা ঘনিষ্ঠ ছিলাম, এই দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। বর্তমান দেশের অনেক গুণীজন টিংকু ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ। তাদের সঙ্গে টিংকু ভাইয়ের কাটানো আড্ডাবাজি স্মৃতি নিয়ে ‘স্মারকগ্রন্থ’ বের করার ইচ্ছে ছিল এই মৃত্যুবার্ষিকীতে। কিন্তু টিংকু ভাইয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ অনেকের ব্যস্ততার কারণে তাদের স্মৃতিকথা সংবলিত লেখা এখনো শেষ হয়নি। আশা করছি এই ফেব্রুয়ারিতে এই প্রকাশনা শেষ হবে।

আপনাদের সকলকে লেখনি দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

টিংকু ভাই আপনি আছেন, ছিলেন, থাকবেন। কখনো মনে হবে না, আপনি নেই। শুধু কথা ও চোখের দেখা হবে না। অন্তত খারাপ সময়ে সাহসের প্রতিবিম্ব হয়ে থাকবেন আজীবন। ভালো থাকবেন অনন্তকাল।

লেখক:ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ,
শিক্ষক-আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ,
সাবেক ভিপি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র-সংসদ,
সাবেক আহ্বায়ক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

সারাদিন/৮ ফেব্রুয়ারি/ আরটিএস