‘কেবল থার্মাল স্ক্যানার দিয়েই করোনাভাইরাস শনাক্ত সম্ভব নয়’

জেষ্ঠ্য প্রতিবেদকজেষ্ঠ্য প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩:৫০ অপরাহ্ণ, ০৭/০২/২০২০

বিশ্বের অন্তত ২৫ দেশে মিলেছে মরণঘাতী করোনাভাইরাস। তবে বাংলাদেশে এখনও শনাক্ত হয়নি। চীন থেকে আসা ৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে একথা জানিয়েছে আইইডিসিআর। এদিকে শুধু থার্মাল স্ক্যানারের মধ্যে দিয়ে গেলেই করোনা শনাক্ত করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত চীন ফেরত ৮ হাজার ৩৯৬ জনকে স্ক্রিনিং করা হলেও কারো মধ্যে করোনার উপস্থিতি মেলেনি।

প্রাথমিকভাবে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া দুর্বল হলে বাংলাদেশ বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের। এক্ষেত্রে প্রতিটি যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে তার আগের ইতিহাস নিতে হবে। তবে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও মনে করেন তারা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু থার্মাল স্ক্যানারের মধ্যে দিয়ে পার হয়ে এলেই করোনায় আক্রান্তকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। অবশ্যই প্রতিটি যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে ইতিপূর্বে তার সম্ভাব্য লক্ষণ ছিল কিনা সেটি নিশ্চিত হতে হবে।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ও ভাইরাস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, একজন থার্মাল স্ক্যানারে দিয়ে আসলেন তার জ্বর ছিল না। সে প্যারাসিটামাল খেয়ে আসছে। যদি থার্মাল স্ক্যানারে জ্বর না আসে এরপরও প্রশ্ন করা উচিত।

বিমানবন্দরে নেমে বাড়ি ফেরার তাড়া থাকায় যাত্রীদের সচেতন করার বিষয়টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে সংক্রমণ এড়াতে তারা যেন তথ্য গোপন না করে সে জন্য ব্যাপক কাউন্সেলিং এর পরামর্শ ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের।

ডা. নজরুল আরও বলেন, আবার এমন যাত্রী আছে যারা খুব বিবেচক। তারা ভাবে, যদি আমার হয়ে থাকে তাহলে আমার পরিবারের লোকজন আক্রান্ত হবে।

তবে করোনাভাইরাসের মৃতের সংখ্যা বাড়লেও এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বললেন এ বিশেষজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু প্রাক্তন উপাচার্য আরও বলেন, এ করোনাভাইরাসে যতজন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, তার ২ শতাংশ মানুষ মারা গেছে।

এদিকে দ্রুত করোনা শনাক্তে কার্যকরী কিট এরইমধ্যে বাংলাদেশে এসেছে। এখন পর্যন্ত ৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত কেউ নেই বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।

আইইডিসিআরর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে পরামর্শ দিয়েছে আমরা সেভাবে শনাক্ত করছি। শনাক্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে সব করোনা কাভার করে আমরা শুরু করি, কোনো করোনা তার মধ্যে আছে কিনা। এক্ষেত্রে যদি নেগেটিভ হয়, এক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না। যদি পজিটিভ হয়, তাহলে যে পরীক্ষাগুলো রয়েছে সেগুলো কাভার করা হয়।

সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে আইইডিসিআর বলছে, আতঙ্কিত হয়ে প্রত্যেকের মাস্ক পড়ার প্রয়োজন নেই।

সারাদিন/৭ফেব্রুয়ারি/টিআর