পর্দা উঠল ঢাকা আর্ট সামিটের পঞ্চম সংস্করণের

বিশেষ প্রতিনিধিবিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, ০৭/০২/২০২০

‘সিসমিক মুভমেন্ট বা সঞ্চারণ’ প্রতিপাদ্য দিয়ে শুরু হলো ঢাকা আর্ট সামিটের পঞ্চম সংস্করণ। এক ছাদের নিচে বিশ্বের নানা প্রান্তের নানা মেজাজ ও শিল্পের বহুমাত্রিক কাজ দেখার বিরল সুযোগ করে দিতে ২০১২ সাল থেকে এই সামিটের আয়োজন করে আসছে সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশন ও শিল্পকলা একাডেমি। চারবারের সফল আয়োজনের পর এবার বসলো পঞ্চম আসর।

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পর্দা উঠল বহুল আলোচিত ঢাকা আর্ট সামিটের পঞ্চম সংস্করণের। ৯ দিনের এ শিল্পকলার আসরে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পাঁচ শতাধিক চিত্রশিল্পী-ভাস্কর, কিউরেটর, শিল্প-সমালোচক, আর্ট প্রফেশনাল, শিল্প-সংগ্রাহক ও স্থপতি।

এই শিল্প সম্মেলনে এশীয় চিত্রকলার বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীর শিল্পকর্ম দেখার যেমন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি রয়েছে শিল্পীর সঙ্গে শিল্প বোদ্ধা কিংবা শিল্প রসিকের সঙ্গে শিল্পীর জানা শোনার সুযোগ।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আর্ট সামিটের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বক্তব্য রাখেন ঢাকা আর্ট সামিটের চেয়ারম্যান ফারুক সোবহান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনের কো ফাউন্ডার ও পরিচালক নাদিয়া সামদানী। সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই প্রদর্শনী বিশ্বের সঙ্গে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় চিত্রকলার সবচেয়ে বড় আয়োজন হওয়ায় এ নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। শিল্পমনা জাতি হিসেবে বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে। ঢাকা আর্ট সামিট শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্ব প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, চিত্রকলায় পৃথিবী বিখ্যাত শিল্পীদের কাজ ও বাংলাদেশী শিল্পীদের কাজ একই ছাদের নিচে প্রদর্শনের এই আয়োজন নিশ্চই প্রশংসার দাবী রাখে। তিনি সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনকে এই আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনের কো-ফাউন্ডার নাদিয়া সামদানী বলেন, ঢাকা আর্ট সামিটের এটি পঞ্চম আয়োজন, বিভিন্ন রকম পরীক্ষণের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাথে যৌথভাবে প্রতি দুই বছর পরপর এই আয়োজনটি করা হয়ে থাকে। এবারের ঢাকা আর্ট সামিটের থিম হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের মুভমেন্ট নিয়ে কাজ করা পৃথিবী বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে।

এক লাখ ২০ হাজার বর্গফুট আয়তনের শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ভবনজুড়ে এই সামিটের আয়োজন করা হয়েছে। বৈচিত্র্যময় শিল্প ও শিল্পকর্মের সাজানো প্রদর্শনী উপভোগ করতে প্রথম দিন থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মতো।

জামোরাহের পরিচালনায় ‘মোভিমিয়েনটস এমিসরেস ডি এক্সিটেনশিয়া শিরোনামে পারফর্ম্যান্স অ্যাকশন। শিশু-কিশোরদের জন্য ছিল গিদরি বাউলির পরিবেশনায় পাপেট শো ‘গল্পটা সবার’। প্রথম দিনের শেষ পরিবেশনা ছিল সন্ধ্যা ৭টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় ‘টুগেটার (ঢাকা সংস্করণ)’ শীর্ষক পারফম্যান্স। যেখানে অংশ নেন করাকৃত অরুনাদ্ধচল এবং অ্যালেক্স ভোজিও।

সামিটের অংশ হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সাজানো হয়েছে একটি বিশেষ প্রদর্শনী। একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার প্রথম তলায় চলছে ‘লাইটিং দি ফায়ার অব ফ্রিডম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে সেই প্রদর্শনীর। এই প্রদর্শনীর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

সারাদিন/৭ফেব্রুয়ারি/টিআর