মরণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে প্রথম সতর্ককারী চিকিৎসক মারা গেছেন

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, ০৭/০২/২০২০

চীনে মরণঘাতী করোনাভাইরাস ২০১৯ এনসিওভি সম্পর্কে প্রথমে এক চিকিৎসক সতর্ক করেছিলেন। আর সেই চিকিৎসক নিজেই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন। লি ওয়েনলিয়াং নামের ওই চক্ষু বিশেষজ্ঞ ২০১৯ এনসিওভি’তে আক্রান্ত হওয়ার পর স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। লি’কে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে রাখা হয়েছিলো।

সবার আগে এই প্রাণঘাতি ভাইরাস ২০১৯ এনসিওভির প্রার্দুভাবের বিষয়টি টের পেয়েছিলেন ডা. লি। তিনি এর ভয়াবহতাও বুঝতে পেরেছিলেন। চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েবোতে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন তিনি।

এ ছাড়া চীনে বার্তা বিনিময়, সীমিত আকারে অর্থ লেনদেন এবং কেনাকাটার জন্য ব্যবহৃত অ্যাপ উইচ্যাটে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বরে একটি বার্তা দেন তিনি। বার্তাটি নিজ চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের গ্রুপে দেয়া হয়।

তিনি জানান, স্থানীয় একটি সামুদ্রিক খাবার বিক্রির বাজারের সঙ্গে জড়তি সাত ব্যক্তি অভূতপূর্ব বিশেষ ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছেন।

এ ভাইরাসের প্রকৃতি তুলে ধরে লি বলেন, এটি অনেকটা সার্সের মতো। একটি পরীক্ষা দেখে বুঝতে পেরেছি যে নতুন ভাইরাসটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। তিনি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের সতর্ক করতে ওই বার্তা দিয়েছিলেন বলে জানান।

ওই বার্তা অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশের হাতে নাজেহাল হতে হয় লিকে। তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আনে উহানের পুলিশ। একইদিনে উহান পৌর স্বাস্থ্য কমিশনের জারি করা জরুরি বার্তায় জানানো হয়, সি-ফুড মার্কেট থেকে আগত ওই সাত রোগীর ‘অজ্ঞাত নিউমোনিয়া’ ছিল।

‘অনলাইনে গুজব ছড়ানো ও সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত করার’ অভিযোগে গত ৩ জানুয়ারি স্থানীয় পুলিশ তাকে থানায় তলব করে। ‘বেআইনি’ কাজের কথা স্বীকার করে এবং আর কোনো আইনবিরোধী কাজ না করার অঙ্গীকার দিয়ে রেহাই পান তিনি। তলবের এক ঘণ্টা পর থানা থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন লি।

পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার পর উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালে কাজে ফেরেন লি। এরপর ১০ জানুয়ারি ২০১৯ এনসিওভি’তে আক্রান্ত এক গ্লুকোমা রোগীর অপারেশন করার সময় তিনি নিজেই এ রোগের শিকার হন।

চীনের সরকারি দৈনিক গ্লোবাল টাইমস আজ(বৃহস্পতিবার) এক টুইট বার্তায় জানায় যে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রায় এক মাস পরে মারা গেছেন ডা. লি। লি’র একটি শিশু সন্তান আছে এবং আগামি গ্রীষ্মে তার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে হাসপাতালের শয্যা থেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চীনের কর্মকর্তারা যদি আগে ভাগে এ ভাইরাসের মহামারি নিয়ে তথ্যাদি প্রকাশ করতেন তা হলে পরিস্থিতি আরও ভাল হতো। তিনি আরও বলেন, আরও খোলামেলা এবং স্বচ্ছতা থাকা উচিত ছিল।

সারাদিন/৭ফেব্রুয়ারি/টিআর