২০১৯ সালে চাকরি গেছে সাড়ে ৩২ হাজার পোশাক শ্রমিকের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকজ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, ০৬/০২/২০২০

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর আওতাধীন ৬৩টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই ২০১৯ সালে চাকরি হারিয়েছেন ৩২ হাজার ৫৮২ জন শ্রমিক।

আর নিটওয়্যার খাতের কোনো কারখানা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না হলেও ২০১৯ সালে এক হাজার ২৮০টি কারখানা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শামসুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিকেএমইএর আওতাধীন ২ হাজার ২০০ কারখানার মধ্যে ৯২০টি কারখানা ২০১৯ সালে সদস্যপদ নবায়ন করেছে। অবশিষ্ট কারখানাগুলো সক্রিয় নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। রপ্তানি আদেশ পেলে কারখানাগুলো পুনরায় সক্রিয় হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির দিক দিয়ে চীনের পরেই এখন বাংলাদেশের অবস্থান। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ খাতে প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের একটি বড় অংশ নারী।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাংলাদেশ ৩৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। যা ছিল মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশের বেশি। কিন্তু চলতি অর্থবছরে সেই আয়ে ভাটা পড়েছে।

জুলাই-জানুয়ারি সময়ে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ২১ শতাংশ, নিট পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ, আর উভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।

এই নেতিবাচক ধারা কাটাতে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণে সুদের হার কমানো, আয়কর প্রত্যাহার, বন্দরের জট কমানো, নগদ সহায়তা দেওয়ার মত একগুচ্ছ দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এর আগে বলেছিলেন, কাজ পাওয়ার জন্য রপ্তানিকারকদের দাম কমিয়ে দেওয়াও প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার একটি কারণ।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাংসদ আনোয়ার হোসেন খানের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বুধবার সংসদে জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পেঁয়াজ সংগ্রহের মৌসুম। মৌসুম শুরু হলে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং মূল্য স্থিতিশীল হবে বলে ‘আশা করা যায়’।

এই সংসদ সদস্যের আরেক প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি জানান, ২০১৯ সালে বারো মাসে ১৬৯ দশমিক ১১ মিলিয়ন ডলারের খাদ্যশস্য বাংলাদেশ রপ্তানি করছে।

বিএনপির হারুনুর রশীদ ও সংরক্ষিত আসনের বেগম রত্না আহমেদের পৃথক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, চলতি আমন সংগ্রহ মৌসুমে ছয় লাখ ২৬ হাজার ৯৯১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।

এর বিপরীতে ২৭ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত দুই লাখ ৬১ হাজার ৩২৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সেজন্য ৬৭৯ কোটি ৪৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

আওয়ামী লীগের হাজী সেলিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের খাদ্য গুদামগুলোর মধ্যে ১৪৪টি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যেগুলোর ধারণ ক্ষমতা ৮৪ হাজার ২১০ মেট্রিক টন।

সংরক্ষিত আসনের নাজমা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে এক কোটি ২৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৮৩ জন কর্মী কাজ নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গেছেন।

নির্যাতন বা অন্যান্য কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০১৯ সালে মোট ৭১৭ জন নারী কর্মী ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর হয়ে দেশে এসেছেন বলে গণফোরামের মোকাব্বির খানের এক প্রশ্নে জানান ইমরান আহমদ।

আওয়ামী লীগের মনজুর আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫২ হাজার বাংলাদেশি গত ১ অগাস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ফিরেছেন, যারা সেখানে অবৈধ অথবা অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন।

সরকারি দলের হাজী সেলিমের প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান জানান, দেশে ১০টি শ্রম আদালত ও একটি শ্রম আপিল ট্র্যাইব্যুনাল রয়েছে। এসব আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১৯ হাজার ৭৬৩টি।

সারাদিন/৬ফেব্রুয়ারি/টিআর