ঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রী-সন্তানের নির্যাতনের শিকার কৃষক!

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ৩:১০ অপরাহ্ণ, ০৪/০২/২০২০

ঠাকুরগাঁয়ে স্ত্রী-সন্তানের নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছেন আফজাল হোসেন (৪৫) নামে এক কৃষক। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে এলাকাবাসী।

আহত আফজাল সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনের
ছ্যাঁকা ও লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

নির্যাতিত আফজাল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অসুস্থতার জন্য কিছুদিন যাবত কাজ করতে পারি না। ফলে স্ত্রী-সন্তানরা জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে আমাকে, কিন্তু আমি তাতে রাজি হইনি। এ কারণে শ্যালক আরমান আলীর নির্দেশে তার ছেলে আবু বক্কর, আমার স্ত্রী আনোয়ারা, ছেলে আলমগীর ও মেয়ে আল্পনা কিছুদিন যাবত আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল।

তিনি বলেন, ৩১ জানুয়ারি রাতে তারা আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আর কিছু বলতে পারি না। রোববার সকালে ব্যাথায় বিছানা থেকে উঠতে পারিনি। বিকেলে অনেক কষ্টে বাজারে ওষুধ কিনতে গেলে একজন প্রতিবেশি শরীরের দাগগুলো দেখে সবাইকে জানায়। পরে তারাই আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমি আর পরিবারে ফিরে যেতে চাই না এবং এ নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই।

প্রতিবেশি ইমান আলী বলেন, আফজালের সঙ্গে অমানবিক কাজ করা হয়েছে। ঘটনার তিনদিন হয়ে গেলেও তার কোন চিকিৎসা হয়নি। আফজালকে এমন ভয় দেখানো হয়েছে যে সে আশপাশের কাউকেও ঘটনা জানানোর সাহস পায়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এদিকে আফজালকে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তার ছেলে আলমগীর পলাতক রয়েছে। অভিযুক্ত আফজালের শ্যালক আরমান, স্ত্রী আনোয়ারা ও মেয়ে আল্পনা এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মনজুর মোর্শেদ বলেন, আফজালের বুকে ও পিঠের বিভিন্ন স্থান আগুনে ঝলসে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের কারণে রক্ত জমাট হয়ে গেছে। তার চিকিৎসা চলছে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দাখিল করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সারাদিন/৪ফেব্রুয়ারি/এএইচ/টিআর